তীব্র গরমে রিচ ফুড আর কোমল পানীয়ের সাথে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

 



তীব্র গরমে রিচ ফুড আর কোমল পানীয়ের সাথে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি


কোরবানির ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও দেশের অনেক পরিবারে এখনও চলছে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া, দাওয়াত এবং নানা ধরনের খাবারের আয়োজন। এরই মধ্যে দেশের প্রায় সব অঞ্চলে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। ফলে একদিকে যেমন খাদ্যতালিকায় বেড়েছে গরুর মাংসের বিভিন্ন পদ, তেমনি অন্যদিকে গরম থেকে স্বস্তি পেতে অনেকেই ঝুঁকছেন কোমল পানীয়, আইসক্রিম ও নানা ধরনের ঠান্ডা পানীয়ের দিকে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎসবের পর কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যখন বাইরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকে।

গরুর মাংস প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ এর গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে চর্বিযুক্ত মাংস খেলে হজমে সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা এবং অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ হৃদরোগ, স্থূলতা এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে, প্রচণ্ড গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি ও খনিজ পদার্থ বের হয়ে যায়। এ সময় অনেকেই তৃষ্ণা মেটাতে কোমল পানীয় পান করেন। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, অধিকাংশ কোমল পানীয়তে উচ্চমাত্রার চিনি থাকে, যা সাময়িকভাবে সতেজ অনুভূতি দিলেও শরীরের পানির ঘাটতি পূরণের আদর্শ উপায় নয়। বরং অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি গ্রহণের কারণে ওজন বৃদ্ধি, রক্তে শর্করার ওঠানামা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?


ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি:

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অতিরিক্ত কোমল পানীয়, মিষ্টি জাতীয় খাবার এবং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। গরমের কারণে পানিশূন্যতা তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।


উচ্চ রক্তচাপের রোগী:

অনেক মাংসের পদ, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং রেস্তোরাঁর খাবারে তুলনামূলক বেশি লবণ থাকে। এসব খাবার অতিরিক্ত খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে গরমের কারণে শরীরে যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।


প্রবীণ মানুষ:

বয়স্কদের শরীর তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তুলনামূলক কম সক্ষম। অনেক সময় তাদের তৃষ্ণাও কম অনুভূত হয়। ফলে অজান্তেই পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।



এই সময়ে যা করা উচিত

সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।
কোমল পানীয়ের পরিবর্তে পানি, ডাবের পানি বা চিনি ছাড়া লেবুর শরবত বেছে নিন।

মাংসের পাশাপাশি শাকসবজি, সালাদ ও মৌসুমি ফল রাখুন।
একবেলায় অতিরিক্ত খাওয়ার পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে খাবার খান।
গরমের মধ্যে বাইরে থাকলে নিয়মিত পানি পান করুন।

বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের পানি পানের বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের খেয়াল রাখা উচিত।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালিয়ে যান।

যা এড়িয়ে চলা ভালো:

একসঙ্গে অতিরিক্ত পরিমাণে মাংস বা ভারী খাবার খাওয়া।
বারবার কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় পান করা।
দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা, তারপর হঠাৎ বেশি খেয়ে ফেলা।
তীব্র রোদে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করা।
রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে রেখে পরে খাওয়া।


দেশজুড়ে চলমান এই তীব্র গরমের মধ্যে উৎসব-পরবর্তী আনন্দ উপভোগ করুন তবে অবশ্যই নিজের এবং স্বজনদের খেয়াল রাখুন। এসময় খাবারের পরিমাণ, পানির চাহিদা এবং শরীরের সামগ্রিক অবস্থার দিকে নজর রাখা খুবই জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে সামান্য সচেতনতাই হজমের সমস্যা, পানিশূন্যতা এবং বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।
أحدث أقدم

Ads

Ads