সমাজসেবা অধিদপ্তর কতৃক চিকিৎসা সহায়তার PDF ডাউনলোড করুন
প্রতি বছর দেশে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড অবস্থা, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ার কারণে মৃত্যুবরণ করে। একই সঙ্গে আরও প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ নতুনভাবে এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
চিকিৎসার উচ্চ ব্যয়ের কারণে
অনেক দরিদ্র ও অসহায় পরিবার
আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই
বাস্তবতা বিবেচনায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় Ministry of
Social Welfare এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় গুরুতর রোগে আক্রান্ত দরিদ্র
রোগীদের নগদ এককালীন আর্থিক
সহায়তা প্রদান করছে।
গত ২রা জুন এক সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ স্যার বলেছেন, দূরারোগ্য ছয়টি রোগের ভাতা যা পূর্বে ছিলো ৫০,০০০ টাকা তা এখন বাড়িয়ে ১,০০,০০০ করা হয়েছে। সেজন্যে আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়কে অসংখ্য ধন্যবাদ।
এই বর্ধিত অনুদান ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে কার্যকর হবে।
যে ৬ টি রোগে আবেদন করা যাবেঃ
নিম্নোক্ত ৬টি প্রাণঘাতী রোগে
আক্রান্ত রোগীরা আবেদন করতে পারবেন—
- ক্যান্সার
- কিডনি রোগ
- লিভার সিরোসিস
- স্ট্রোকে প্যারালাইজড
- জন্মগত হৃদরোগ
- থ্যালাসেমিয়া
অনুদান জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সম্পূর্ণ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের যোগ্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়া জানতে এখানে ক্লিক করুন।
প্রার্থী হতে গেলে আপনাকে মানতে হবে যেসব শর্ত:
- আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
- সর্বাধিক দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের
অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
- আর্থিক অবস্থার ক্ষেত্রে শিশু, নিঃস্ব, উদ্বাস্তু এবং ভূমিহীন ব্যক্তিদের
ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
- (ভূমিহীন বলতে বোঝানো হয়েছে
যাদের বসতবাড়ি ব্যতীত কোনো জমি নেই
অথবা সর্বোচ্চ ০.৫০ একর
বা তার কম জমির
মালিক)
- সামাজিক অবস্থার ক্ষেত্রে বয়োজ্যেষ্ঠ, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, বিপত্নীক, নিঃসন্তান এবং পরিবার থেকে
বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা
- অনুদান পাওয়ার জন্য প্রথমে ৬
পৃষ্ঠার ম্যানুয়াল আবেদন ফর্ম সতর্কভাবে পূরণ
করতে হবে।
- এরপর কম্পিউটার দোকান থেকে অথবা নিজে
অনলাইনে নির্ভুলভাবে আবেদন করতে হবে।
- রোগীর নিজ নামে ব্যাংক
একাউন্ট থাকতে হবে।
- অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের নিচে)
রোগীর ক্ষেত্রে পিতা বা মাতার
ব্যাংক একাউন্ট নম্বর, শাখার নাম এবং রাউটিং
নম্বর ব্যবহার করতে হবে।
লিখিত পরীক্ষার জন্য জুলাই অভ্যূত্থান প্যারাগ্রাফটি লাইন বাই লাইন বাংলা ইংলিশে পড়তে এখানে ক্লিক করুন
প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র:
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট অথবা চেকবইয়ের কভার
পেইজের ফটোকপি
- রোগীর ও নমিনির জাতীয়
পরিচয়পত্র (NID)
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- সকল চিকিৎসা রিপোর্ট (সত্যায়িত)
- চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রত্যয়ন (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)
- আবেদনকারীর রোগ অনুযায়ী নিম্নোক্ত
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক—
- ক্যান্সার রোগীর ক্ষেত্রে অনকোলজিস্ট (Oncologist)
- কিডনি রোগীর ক্ষেত্রে নেফ্রোলজিস্ট (Nephrologist)
- লিভার সিরোসিস রোগীর ক্ষেত্রে হেপাটোলজিস্ট / গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট
(Hepatologist / Gastroenterologist)
- স্ট্রোকে প্যারালাইজড রোগীর ক্ষেত্রে নিউরোলজিস্ট / নিউরোসার্জন
- জন্মগত হৃদরোগ রোগীর ক্ষেত্রে কার্ডিওলজিস্ট (Cardiologist)
- থ্যালাসেমিয়া রোগীর ক্ষেত্রে হেমাটোলজিস্ট (Hematologist)
- এই প্রত্যয়ন অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক স্বাক্ষর, সিল ও রেজিস্ট্রেশন
নম্বরসহ জমা দিতে হবে।
অন্যথায় আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
- জমা ও অফিস সংক্রান্ত
তথ্য
- আবেদন যাচাই শেষে ১টি মূল
সেট এবং আরও ২টি
ফটোকপি সেটসহ মোট ৩ সেট
কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
- আপনার জোন অনুযায়ী শহর
সমাজসেবা কার্যালয় বা জেলা সমাজসেবা
কার্যালয়ে আবেদন জমা দিতে হবে।
- উদাহরণস্বরূপ, NID অনুযায়ী ঢাকার ঠিকানা হলে নির্দিষ্ট জোনের শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন জমা দিতে হবে, জেলা অফিসে নয়। যেমন: ৩৮–৫৪ নং ওয়ার্ডের আবেদনকারীরা শহর সমাজসেবা কার্যালয়–১, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা অফিসে আবেদন জমা দেবেন।
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
এই তথ্যটি সংশ্লিষ্ট রোগে আক্রান্ত রোগী
ও পরিবারের কাছে পৌঁছে দিন,
যাতে তারা সরকারি সহায়তা
গ্রহণে উপকৃত হতে পারেন।
অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় Ministry of
Social Welfare এর অধীনে নির্ধারিত সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।
আবেদন ফরমের পিডিএফ নিতে ম্যাসেজ করুন
NK STUDY CARE ফেসবুক পেইজে।
